শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ঘরে বসেই ফেসিয়াল

সুস্থ ও সুন্দর ত্বক মানেই পরিষ্কার ত্বক। আর যেনতেনভাবে তো ত্বক পরিষ্কার করা যায় না। মাসে একবার বিউটি পারলার বা স্যালনে গিয়ে ফেসিয়াল করলে ভালো। কিন্তু ব্যস্ততায় সেই সময় বা সুযোগ হয়ে ওঠে না। চাইলে ঘরে বসেই করতে পারেন ফেসিয়াল। ত্বকের ধরন বুঝে বাড়িতেই কীভাবে করবেন ?

তৈলাক্ত ত্বক
তৈলাক্ত ত্বক হলে প্রথমে তেল ও ক্ষারমুক্ত ফোমিং ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এ সময় বৃত্তাকার গতিতে (সার্কুলার মোশনে) হাতের আঙুল দিয়ে মুখের এক জায়গা থেকে ম্যাসাজ শুরু করতে হবে। পুরো মুখ, গলা ক্লিনজার দিয়ে ম্যাসাজ শেষে আগের জায়গায় ফিরে আসতে হবে। এভাবে পাঁচ মিনিট করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকে সাধারণত ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডসের সমস্যা বেশি থাকে। হালকা একটু স্টিম দিয়ে নিলে ব্ল্যাক হেডস তুলতে সহজ হয়। বাড়িতে স্টিম মেশিন না থাকলে কোনো বড় বাটিতে বা মগে গরম পানি নিয়ে মাথার চারপাশে তোয়ালে দিয়ে ঢেকে গরম ভাপ নিতে পারেন। এতে লোমকূপ খুলে যাবে। ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস তোলার স্ট্রিপ ব্যবহার করে এটি তুলতে হবে। এরপর মুখ মুছে মুলতানি মাটি ও চন্দনগুঁড়ার প্যাক ভালোভাবে মুখ-গলায় ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। প্যাক শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর তেলমুক্ত কোনো ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা থাকে, এ কারণে স্ক্রাব ব্যবহার না করাই ভালো। করতে চাইলে শুধু টি-জোনে, অর্থাৎ কপাল ও নাকে মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন।

শুষ্ক ত্বক
ক্রিমযুক্ত মৃদু স্ক্রাব দিয়ে শুরুতে মুখটা আলতোভাবে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এরপর তুলার সাহায্যে দুধযুক্ত ক্লিনজার দিয়ে আবার মুখ পরিষ্কার করে নিন। যদি ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা থাকে, তাহলে হালকা স্টিম নিয়ে তা তুলে ফেলতে হবে। এরপর হাইড্রেটিং মাস্ক—যেমন মধু, দুধের সর, কলা দিয়ে একটা প্যাক—তৈরি করতে পারেন। ১০-১৫ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এখন ভারী ধরনের কোনো ময়শ্চারাইজার আঙুলের ডগায় নিয়ে ভালোভাবে মুখে ব্যবহার করতে হবে।

মিশ্র ত্বক
এ ধরনের ত্বকে টি-জোন তৈলাক্ত থাকে। আর বাকি অংশ থাকে শুষ্ক। ব্রণ বা অ্যালার্জির সমস্যা না থাকলে টি-জোনে আলতোভাবে মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে স্ক্রাব ব্যবহারের আগে তেলমুক্ত ময়শ্চারাইজিং ক্লিনজার বা ফোমিং ফেসিয়াল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। সামান্য স্টিম নিয়ে ব্ল্যাক হেডস তুলে নিতে পারেন। এরপর গোলাপ ফুলের পাপড়ির পেস্ট, গোলাপজল, টক দই ও মধু দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। প্যাক শুকিয়ে গেলে মুখ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তেলমুক্ত ময়শ্চারাইজার এখন মুখে ব্যবহার করুন। এ ছাড়া সংবেদনশীল ত্বকে অনেক সময় ফেসিয়াল করলে ব্রণ ও র‌্যাশের সমস্যা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে ভালো কোনো ব্র্যান্ডের ফেসিয়াল ওয়াইপস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

চোখে-নখে রঙের খেলা (Nail Color)

সাজের কোনো নিয়ম আছে, কে বলল শুনি? যদি থেকেও থাকে, ভেঙে দিতে ক্ষতি কী? খুব ভারী মেকআপ কিশোর বয়সে মোটেও মানায় না। কিন্তু উজ্জ্বল সব রঙের ব্যবহারে চোখ আর নখ সাজাতে নেই মানা; বরং তা যেন এক মজার খেলা।

চোখ সাজানোটাই তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। আরও একটা প্রিয় কাজ নখ সাজানো।  কিশোরী বয়সটাতে সাজতে গিয়ে মায়ের বকুনি খাননি, এমন কেউ খুব কমই আছেন। কোমল-কচি ত্বকখানি সাজের কারণে নষ্ট হয়ে যাবে কিংবা এতে ব্রণের সমস্যা হতে পারে ভেবে থাকেন অনেকেই। বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। সাজগোজের পর চাই একটু বাড়তি যত্ন। মেকআপের আগে অবশ্যই ত্বককে প্রয়োজনমতো ময়েশ্চারাইজার দিতে হবে। তারপর শুরু করুন সাজের পালা। কিশোরীদের ত্বক এমনিতেই সজীব দেখায়। তাই অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন বেজ হিসেবে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং হালকা পাউডারই যথেষ্ট। ইচ্ছেমতো রং মাখিয়ে নিন চোখে। চোখের মেকআপটাই ফুটিয়ে তুলবে আপনার উচ্ছলতা আর সব না-বলা কথা।

একেক উপলক্ষে চোখ সাজিয়ে তুলুন একেক রূপে। হিম হিম শীতে চোখের সাজেও রাখতে পারেন হিম আবেশ। নীল আইশ্যাডো চোখের পাতাজুড়ে লাগিয়ে তার সঙ্গে গাঢ় নীল-লাইনার টেনে নিন পাপড়ি ঘেঁষে। রুপালি, হালকা নীলে করে নিন ভুরুর নিচের হিম আবেশ। চোখের নিচে গাঢ় নীল কাজল টেনে নিয়ে পাপড়িগুলোয় মাসকারা দিন আলতো করে। শীতফ্যাশনের হুডি টি-শার্ট, সোয়েটারের সঙ্গে বেশ দেখাবে আপনাকে। চোখের সাজের সঙ্গে মিল রেখে হাতের নখগুলোও সাজিয়ে তুলুন নীলে। প্রথমে নখে হালকা নীল রঙের নেইলপলিশের বেজ নিন। তার ওপর গাঢ় নীল ও সাদা পাথর জুড়ে দিন। চাইলে চোখেও জুড়ে দিতে পারেন দু-একটা পাথর।
গোলাপি রঙের সাজেওচোখ সাজিয়ে তুলতে পারেন। গোলাপি রঙের গাঢ়, হালকা—দুটি শেডই বেছে নিন। এর সঙ্গে বেগুনি শ্যাডো যোগ করে নীল-লাইনার টেনে নিতে পারেন চোখে। নখে লাগিয়ে নিন বেগুনি রঙের নকশাদার স্ট্যাম্প। গোলাপি যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যাবে এ সাজ।
গোলাপি রঙের মতো এ বয়সে লাল রঙের পোশাকের প্রতিও সবার ঝোঁক থাকে। লাল পোশাকে চোখ সাজিয়ে তুলুন বাদামি, কালচে ধোঁয়াশা করে। আর নখে ফ্রেঞ্চ মেনিকিউর করে লাল নেইলপলিশ ও পাথরের ব্যবহার করতে পারেন। রাতের যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য একেবারে যথাযথ হবে এ সাজ।
ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে টইটই করে ঘুরতে যাওয়া হবে? এবার তবে পুরো রংধনুটাই তুলে নিন চোখে। গোলাপি, হলুদ, সবুজ থেকে একটু একটু নিয়ে লাগিয়ে নিন। তার সঙ্গে খুলে দিন চুল। সাদা রঙের পোশাকে চমৎকার মানিয়ে যাবে এ সাজ।
সুন্দর সাজের ক্ষেত্রে সঠিক সাজের উপাদানের ভূমিকাও কম নয়।
আই-লাইনারটা হতে হবে জেল আই-লাইনার। এতে ছড়িয়ে যাওয়ার ভয় বা আশঙ্কা থাকবে না। ঠোঁটের জন্য হালকা রঙের লিপগ্লসই যথেষ্ট। তবে লিপগ্লস ব্যবহারের আগে ঠোঁটে লিপবাম লাগিয়ে নিতে হবে। আইশ্যাডো হিসেবে নিয়ন রঙের এসিড প্যালেট কিংবা আলাদা আইশ্যাডো বক্স ও আইপেনও বেছে নিতে পারেন। নখের নকশা করার জন্য স্ট্যাম্প কিনে নিতে পারেন, আবার নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে এঁকেও নিতে পারেন। নখ ছোট হলে আলাদা নকশা করা নখও বেছে নিতে পারেন। যাঁরা চোখের পাপড়ি ব্যবহার করতে চান, তাঁরা অবশ্যই আপনার চোখের পাপড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেটিকে আকৃতি দিয়ে নিতে ভুল করবেন না। সাজ বাক্সে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সর্বদা উপস্থিতি থাকে, সেটি হলো মেকআপ রিমুভার। সুন্দর হওয়ার জন্য সেজে ওঠাটা যেমন জরুরি, সুন্দর থাকার জন্য সঠিকভাবে সাজ উপাদান তুলে ত্বককে বিশ্রাম দেওয়াও জরুরি। সব প্রস্তুতি যদি ঠিক থাকে, তবে দেরি কেন? সাহস করে আজই মেতে উঠুন সাজের রঙিন খেলার উৎসবে।

ঘুমের আগে ত্বকের যত্নে

শীত চলে এলে ত্বকের যে বিশেষ যত্ন দরকার তা আমাদের সবারই জানা। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না কখন নেবেন ত্বকের যত্ন। সকালে ঘুম থেকে উঠে বা দুপুরে গোসলের পর তো বটেই, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও ত্বকের দরকার বিশেষ পরিচর্যা। 

 ঘর থেকে আমাদের তো বাইরে যেতেই হয়। আর শীতে যেহেতু ধুলাবালি বেড়ে যায়, তাই সারা দিনের ক্লান্তি শেষে ত্বকের দরকার একটু বিশেষ যত্ন।
শীতের রাত দীর্ঘ সময়ের; তাই রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ বা কোমল সাবান দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর যাঁদের ত্বক কিছুটা শুষ্ক, তাঁরা তৈলাক্ত ক্রিম লাগাতে পারেন। আর যাঁদের ত্বক এমনিতেই তৈলাক্ত তাঁরা ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিতে পারেন। সংবেদনশীল ত্বক যাঁদের, অর্থাৎ ত্বকে ক্রিম দিলে র‌্যাশ ওঠার মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য শিশুদের উপযোগী ক্রিম.
শীতের শুরুতেই শুষ্কতার আবেশ টের পায় নাজুক ঠোঁট। ঠোঁট ফাটা বা চামড়া ওঠার সমস্যা তো আছেই। তাই রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে ভ্যাসলিন বা চ্যাপস্টিক দিতে পারেন। তবে যাঁদের ঠোঁটের ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাঁরা ঠোঁটের ত্বকের ধরন বুঝে লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাত, পা শাওয়ার জেল কিংবা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হবে। পায়ের গোড়ালির মৃত কোষ তুলতে কিছুক্ষণ পা হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে ঝামা দিয়ে ঘষতে হবে। কেননা, সারা দিনের চাপ তো পায়ের ওপর বেশি পড়ে। হাত-পা পরিষ্কারের পর ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগাতে হবে।
যাঁদের পা ফাটা সমস্যা আছে, তাঁরা ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটু পুরু করে পায়ে ভ্যাসলিন লাগিয়ে সুতির মোজা পরতে পারেন। এতে পা নরম থাকে এবং পা ফাটা প্রতিরোধে বেশ কাজ দেয়। অনেকের আঙুলের ওপরের অংশ ফাটে, এ ক্ষেত্রে আঙুলের কোনার জায়গা পরিষ্কার করে ভ্যাসলিন লাগাতে হবে। সম্ভব হলে সারা শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগিয়ে নিতে পারেন।
আর যাঁদের হাত ঘামে তাঁরা হাতে লোশন লাগিয়ে হালকা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। তাতে হাত কম ঘামবে এবং লোশনের নরম ভাবটা ত্বকে থেকেই যাবে। শীতের সময় সিনথেটিকজাতীয় কাপড় পরে ঘুমোলে শরীর গরম হয় না, তাই মোটা সুতির কাপড় পরে ঘুমোতে যাওয়া উচিত। সুতির ফুল হাতার গাউন বা ম্যাক্সি পরলে হাত-পায়ের ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।

উঁচু হিলে বিপত্তি (High Heel Shoe)

উঁচু হিলের জুতা। উচ্চতা বাড়াল, হাঁটার ধরন হয়ে উঠল আকর্ষণীয়। পা দুখানাও দেখাচ্ছে চমৎকার। কিন্তু হিল খোলার পরে? পায়ের ব্যথায় হয়তো দুদিন হাঁটতেই পারলেন না। তাই বলে বিশেষ অনুষ্ঠানে হিল না পরেও তো কোনো উপায় নেই। তাই হিল পরা কীভাবে নিরাপদ করবেন, তা নিয়েই এই আয়োজন।  চলনে ও ব্যক্তিত্ব আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করা হিল। তিন ধরনের হিল দেখা যায়। চোখা গোড়ার হিল, পেনসিল হিল এবং সামনে-পেছনে সমান উঁচু ফ্ল্যাট হিল। আজকাল প্রায় সব তরুণী যেকোনো পোশাকের সঙ্গে হিল পরছেন।

চাই মানানসই হিল
হিল জুতা অবশ্যই ড্রেসকোডের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে হবে। সালোয়ার-কামিজের চেয়ে শাড়ি, ফতুয়া, জিনস কিংবা চাপা সালোয়ারের খাটো কামিজের সঙ্গে হিল বেশ মানানসই। পোশাকের রংও এ ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুরোপুরি সাদা পোশাকের সঙ্গে শুধু লাল জুতা মানায় না। সে ক্ষেত্রে পোশাকের অন্যান্য অনুষঙ্গ যেমন—ব্যাগ, ঘড়ি, চুড়ি অথবা রোদচশমা জুতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন।
হিলে ফুটে ওঠা চাই আপনার রুচি এবং ব্যক্তিত্বের মিশেল। অনেকেই ফিতাওয়ালা কিংবা অতিরিক্ত কারুকাজ করা রং-বেরঙের হিল পছন্দ করেন। পশ্চিমা ধাঁচের সঙ্গে ও ধরনের হিল মানায়ও ভালো। আবার একরঙা জুতাও ভালো লাগে।

হিল পরার প্রস্তুতি
হিল পরার মূল উদ্দেশ্যই হলো পা সুন্দর দেখানো।  সে ক্ষেত্রে পায়ের যত্ন নিতে হবে সবার আগে। পায়ের ত্বকের রং যেমনই হোক, পা পরিষ্কার থাকা চাই। নখের ভাঁজে ধুলা-ময়লা থাকা যাবে না। নখে নেইলপলিশ লাগাতে পারেন। অথবা শুধু বাফারিং বা শাইনিং লুক নিয়ে আসতে পারেন সাদা নখে। পায়ের জুয়েলারি যেমন নূপুর, রিং বা অ্যাঙ্কলেট হিলের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যাবে। সবচেয়ে জরুরি হলো, গোড়ালি সুন্দর রাখা। অবশ্যই গোড়ালিতে কোনো ফাটা বা রুক্ষভাব থাকা যাবে না। সে ক্ষেত্রে পেডিকিউর করাতে পারেন। হিল জুতা একটু দামি হওয়াই ভালো। কারণ, ফ্যাশনগুরুরা সব সময় বলেন, আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচি দুটোই বোঝা যায় পায়ের জুতা দেখে।

উঁচু হিলের সমস্যা
মানবশরীরে পায়ের গঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয়। পা পুরো শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। সেই ভারসাম্য খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায় উঁচু হিলের কারণে। নিয়মিত উঁচু হিল পরলে মেরুদণ্ডের হাড় সরে যায়। স্নায়ুচাপ তৈরি হয়। শরীরের কিছু অংশ পুরোপুরি অচল ও অবশ হয়ে যায়। গোড়ালির মূল রগ ছোট হয়ে যায়।
উঁচু হিলের কারণে গোড়ালিতে চাপ পড়ে। এ কারণে ঘাড় ও পিঠে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। গোড়ালির স্নায়ু ও ত্বক হলদেটে হয়ে শক্ত হয়ে পড়ে। আঙুলের নিচের কোমল অংশে ক্ষত তৈরি হয়। সব সময় হাই হিল পরার অভ্যাস হাঁটুতে বাত ও বার্ধক্যজনিত নানা উপসর্গ ত্বরান্বিত করে। এ অভ্যাস আপনার পায়ের আঙুল চিরস্থায়ীভাবে সংকুচিত ও বিকৃত করে দিতে পারে।

 কিছু পরামর্শ—

 হাই হিল যেন আরামদায়ক হয়। না বেশি চাপা, না বেশি ঢিলা। তাই মোটা উলের মোজা পরা পায়ের মাপে হিল জুতা কিনুন। যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের উঁচু হিল না পরাই ভালো।
 উঁচু হিল পা ও পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত করে। তাই অতিরিক্ত সেদ্ধ খাবার খাওয়া বাদ দিন।
 সঠিকভাবে হাঁটার অভ্যাস করুন। ব্যায়াম করুন।
 প্রতিদিন যোগব্যায়াম করলে উঁচু হিলজনিত সমস্যার অনেকখানি উপশম হয়।
 উঁচু হিল পরে উঁচু-নিচু জায়গায় হাঁটবেন না।
 গর্ভাবস্থায় ও মাসিকের সময় কখনোই উঁচু হিল পরবেন না।
 উঁচু হিলের সঙ্গে ত্বকের রঙের মোজা পরলে পায়ে দাগ কম পড়বে। ত্বকও ভালো থাকবে।
 নতুন নতুন হিল জুতা পরলে হাঁটার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। ধীরে হাঁটুন।
 গোড়ালি মচকে গেলে বা পায়ে বেশি ব্যথা করলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।